নিজস্ব প্রতিবেদক

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


২৯ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪৭



ইমা কৈথাল : যে বাজারের ব্যবসায়ী শুধুই নারীরা (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

২৯ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪৭


বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর

কাপড় থেকে শুরু করে মসলা, তাজা ফলমূল, শাকসবজি ও জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসই পাবেন ৫০০ বছরের পুরোনো এই বাজারে। যার নাম ইমা কৈথাল। তবে বহু দিনের পুরোনো বাজার বলেই এর খ্যাতি, তেমন কিন্তু নয়। অন্যান্য বাজারের সঙ্গে ইমা কৈথাল বাজারের পার্থক্য হলো, এই বাজারের প্রতিটি ব্যবসায়ীই নারী।

মণিপুরি ইমা কৈথাল নামটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘মায়েদের বাজার’। ভারতের উত্তর-পূর্বের মণিপুর রাজ্যের রাজধানী ইমফালে অবস্থিত এই বাজারটিকে বলা হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারীদের পরিচালিত বাজার। এই বাজারে ৫ হাজার মহিলা ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। পুরুষরা এই বাজারে এসে পণ্য কিনতে পারবেন, মালামাল বহনকারী বা প্রহরী হিসেবে কাজ পারবেন, নারীদের চা-পানি এনে দেওয়ার কাজও করতে পারবেন। কিন্তু বাজারে বিক্রেতা হিসেবে থাকবেন শুধু নারীরা। পুরো রাজ্যের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এখানের নারীদের অবদান রয়েছে।

প্রচলিত রীতিমতে, শুধু বিবাহিত নারীরাই ইমা কৈথাল বাজারে ব্যবসা করতে পারবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে দোকান নিয়ে বসার অনুমতি পাবেন। সেই নারীকে অবশ্যই একজন অবসরপ্রাপ্ত বিক্রেতার কাছ থেকে মনোনয়ন পেতে হবে, যিনি সাধারণত তার বোন, কন্যা বা কাজিনকেই মনোনীত করে থাকেন। মূলত, ১৬ শতকে কাংলেইপাক রাজ্য থেকে ইমা কৈথাল বাজারের উৎপত্তি। শুরুতে এটি ছিল খোলা আকাশের নিচে একটি অস্থায়ী বাজার। প্রতিবেশী বার্মিজ ও চীনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করার জন্য ১৫৩৩ সালে মণিপুরে পুরুষদের সৈন্য দলে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। ফলে নগর পরিচালনার জন্য থেকে যান শুধু নারীরা।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা ১৮৯১ সালে মণিপুরে এমন কিছু নিয়মনীতি আরোপ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইমা কৈথাল বাজারের নারীদের প্রতিবাদের মুখে ব্রিটিশরা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। এরপর ভারতের রাজ্য সরকার যখন ২০০৩ সালে বাজারের স্থলে একটি শপিংমল নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে, তখন এই বাজারের নারী ব্যবসায়ীরা সপ্তাহব্যাপী গণধর্মঘট পালন করেন, অর্থনীতিকে স্থবির করে তোলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেন। বর্তমানে ইমা কৈথাল মণিপুরের সমতাবাদী সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ। ভারতের নারী শিক্ষার হার সবচেয়ে বেশি যে রাজ্যগুলোতে, তার মধ্যে মণিপুর অন্যতম। এদিকে অনেক নারী প্রথাগত সামাজিক রীতিনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে এই বাজারের স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়েছেন।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে একটি ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এই বাজারের ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং এটি পুনঃনির্মাণ করতে দুই বছরেরও বেশি সময় লেগে গিয়েছিল। এ ছাড়া মহামারিকালে এক বছরেরও বেশি সময় বাজার বন্ধ থাকায় বহু ব্যবসায়ীর জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আবারও ৫০০ বছরের পুরোনো এই বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এখানে পুরোদমে চলছে বেচাকেনা।

ইউএইচ/এইচআই