ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৩ জুন ২০২৩ ০১:৫০
ছবি : সংগৃহীত
অনেকেই জানতে চান চিনি নাকি লবণ কোনটি শরীরের জন্য
বেশি ক্ষতিকর। এ দুটিই অতিরিক্ত খেলে শরীরের ক্ষতি হয় জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটির
মধ্যে যদি একটিকে কমাতে হলে আগে অবশ্যই চিনি বাদ দিতে হবে। বলছেন, লবণ যেমন হৃদরোগের
আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়, তেমনি চিনিও একই কাজ করে। শুধু তাই নয়, চিনি রক্তচাপ, অবসাদ, ডায়াবেটিসের
মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি বেশি পরিমাণে চিনি খেলে ধীরে ধীরে বুদ্ধির পরিমাণও
কমে যায়।
অন্যদিকে ‘লাইফ সায়েন্স’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত
গবেষণায় বলছে, লবণে ব্যাপক পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। অল্প এবং সীমিত লবণ শরীরে তরলের ভারসাম্য
বজায় রাখে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু পরিমাণে বেশি হয়ে গেলেই হৃদরোগের আশঙ্কা
বাড়ে। এতে কিডনিরও ক্ষতি হয়। তাই লবণ পরিমিত খেতে পারলে চিনির তুলনায় ক্ষতি কম হয়।
প্রচলিত বেশির ভাগ খাবারই চিনি ছাড়া অসম্পূর্ণ।
অল্প পরিমাণে চিনি তেমন কোনো ক্ষতি করে না- এমনই ধারণা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। কিন্তু
সম্প্রতি ‘কুইন্সল্যান্ড হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করছে, অল্প
চিনিও ক্ষতি করে। চিনির পরিমাণ বাড়লে ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেশি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবারেই চিনি খাওয়া ছাড়তে না
পারলেও এটি ধীরে ধীরে বাদ দেয়া যেতে পারে। তাদের মতে, প্রতিদিন নারীদের ৫০ গ্রামের
বেশি এবং পুরুষদের ৭০ গ্রামের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। আর এক গ্লাস ফলের জুসে ৭ চা
চামচ পর্যন্ত চিনি থাকতে পারে। বলছেন, সাধারণ মিষ্টি জুসের পরিবর্তে পানি পান কিংবা টমেটোর জুস
খাওয়া শরীরের জন্য বেশি স্বাস্থ্যকর।
এ ছাড়া চা বা কফি পানের সময় সাধারণত
যে পরিমাণ চিনি ব্যবহার করা হয়, তার অর্ধেক ব্যবহার করলে ভালো হয়। সম্ভব হলে লো ক্যালরি
চিনি ব্যবহার করতে হবে। আর সবচেয়ে ভালো হয় যদি চিনি ছাড়া পান করা যায়। এ ছাড়া মিষ্টি
কিছু খাওয়ার ইচ্ছে হলে কেক, চকোলেটের মতো খাবারের পরিবর্তে মিষ্টি ফল খাওয়া ভালো। কারণ, ফলে চিনি থাকলেও এতে রয়েছে অনেক ফাইবার। এ ছাড়া ফলমূলে রয়েছে ভিটামিন এবং মিনারেল, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
জেডএস/এইচআই