ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৯ জুন ২০২৩ ১০:৪১



মঙ্গল গ্রহে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৯ জুন ২০২৩ ১০:৪১


ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গল গ্রহের প্রতি মানুষের বিশেষ টান বা অনুভূতি সব সময় বেশি দেখা যায়। আর এই গ্রহে কোনো একসময়ে বসতি স্থাপনের স্বপ্নও দেখেন বিজ্ঞানীরা। এ ছাড়া গবেষকরাও উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় মঙ্গল গ্রহের প্রতি বাড়তি আগ্রহ দেখান। কারণ, সৌরজগতে পৃথিবী ছাড়া মঙ্গলই একমাত্র গ্রহ, যেখানে মানুষের বসবাসের জন্য সহনশীল অনেক উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া মঙ্গলগ্রহের দিন-রাতের চক্র অনেকটাই পৃথিবীর মতো। সেখানকার একটি দিন পৃথিবীর তুলনায় মাত্র ৩৭ মিনিট বেশি। ফলে মঙ্গলে মানুষের জৈবিক ছন্দপতনের তেমন কোনো আশঙ্কা দেখেন না বিজ্ঞানীরা।

এ ছাড়া মঙ্গলগ্রহ এবং পৃথিবীর আলোর পরিবেশেরও অনেক মিল রয়েছে, যা দুই গ্রহের সূর্যাস্তের ছবি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে বোঝা যায়। অন্যদিকে মঙ্গলের মতো পৃথিবীর ঘূর্ণনের অক্ষও প্রায় একই মাত্রায় বাঁকা। আর এত মিলের কারণে দুই গ্রহের বায়ুমণ্ডলও অনেকটা একই রকম আচরণ করে থাকে। পৃথিবীর আবরণ মূলত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনে ভরা। পৃথিবী সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ, যার পৃষ্ঠে দেখা যায় তরল পানি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাড়ে ৩০০ কোটি বছর আগে মঙ্গলগ্রহের বুকেও ছিল পানি। নদীর সেই অববাহিকা আজও স্পষ্ট চোখে পড়ে। সে সময় সেখানকার পরিবেশ প্রাণের আবির্ভাবের জন্যও অনেক বেশি উপযুক্ত ছিল।

তবে এখন মঙ্গলগ্রহ তার বায়ুমণ্ডলের সেই প্রাণ হারিয়েছে। সূর্য থেকে লাগাতার কণার ঝড় মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলের উপরের অংশ নষ্ট করে দিয়েছে। মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলের ঘনত্বের মাত্রা পৃথিবীর ১০০ ভাগের একে এসে ঠেঁকেছে। আর মনোরম মঙ্গলগ্রহের পরিবেশ আজ শুকনো রূপান্তরিত হয়েছে বরফের মরুভূমিতে। লাল এই গ্রহে এখন শুধু বরফ বা বাষ্প হিসেবেই পানির অস্তিত্ব রয়েছে। দুই মেরু অঞ্চলে খোলা আকাশের নিচেই সেই বরফ দেখা যায়। এ ছাড়া ২০২২ সালে মঙ্গলগ্রহে ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন' হিসেবে পরিচিত ভালেস মারিনেরিস এলাকার নিচে পানির বিশাল ভাণ্ডার আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা।

অন্যদিকে সিমুলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এতে সূর্য ও মঙ্গলগ্রহের মধ্যে কৃত্রিম চৌম্বক ক্ষেত্র আবার প্রাণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন কি না, বিজ্ঞানীরা তা জানার চেষ্টা করছেন। সে ক্ষেত্রে বাতাসের চাপ ও তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তারপর মেরু অঞ্চলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডভরা বরফ গলতে শুরু করলে গ্রিনহাউস অ্যাফেক্ট দেখা দেবে। তখন নদী ও হ্রদ সৃষ্টি হবে। তবে বিজ্ঞানীরা হিসেব-নিকেশ এমনটা করতে পারলেও বাস্তবে ঘটাতে পারবেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে।

এইচআই