ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


২৬ জুন ২০২৩ ০৮:৩৮



পপি থেকে ববিতা হয়ে ওঠার গল্প

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

২৬ জুন ২০২৩ ০৮:৩৮


ববিতা, বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জল নক্ষত্র। অথচ তার মায়ের ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে মেয়ে হবেন চিকিৎসক। কিন্তু মেয়েটি বোনের অনুপ্রেরণায় চলে এলেন রুপালি জগতে। শুধু কি তাই? বাবা-মা শখ করে নাম রেখেছিলেন ফরিদা আক্তার পপি। কিন্তু সেই সময় ‘কলম’ নামের একটি টিভি নাটকে সুবর্ণা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি । ফলে সেই থেকে পর্দায় এবং বাস্তবে তিনি সুবর্ণা নামে পরিচিতি পেতে থাকেন। এভাবেই বাংলা চলচ্চিত্রের সত্তর দশকের সিনেমাপ্রেমীদের মনে সারা জাগানো অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন ববিতা।

১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে সুবর্ণা নামটি বদলে পপি হয়ে যান ববিতা। আর সেই ববিতাই পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটবিহীন রানী। এর আগে ১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘সংসার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় ববিতার। এতে বড় বোন সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেই ছবিতে সুচন্দার বিপরীতে ছিলেন প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা নায়ক রাজ রাজ্জাক।

এরপর ১৯৭৩ সালে সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত সিনেমায় অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি পান ববিতা। দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে অ্যাকশন, সামজিক, গ্রামীণ, শহুরে—সব ধরনের চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা। সত্তর ও আশির দশকে নিজের কাজ ও প্রতিভা দিয়ে সেরা অভিনেত্রীদের কাতারে সগৌরবে নিজের নাম লেখান তিনি।

এ পর্যন্ত আড়াইশর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা। এর মধ্যে নয়নমনি (১৯৭৫), বসুন্ধরা (১৯৭৬), বাদী থেকে বেগম (১৯৭৭) ও রামের সুমতি (১৯৮৫) সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। প্রযোজনাতেও নাম লিখিয়েছেন অভিনেত্রী। ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ সিনেমার জন্য ১৯৯৬ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এই সিনেমায় অভিনয়ও করেন তিনি।

১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাটের সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসক দম্পতির ঘরে জন্ম হয় ববিতার। তিন বোন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বেশ সুপরিচিত। ববিতাকে সর্বশেষ দেখা যায় ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া পুত্র এখন পয়সাওয়ালা সিনেমায়। অভিনেত্রী এখন নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার একমাত্র ছেলে অনিক কানাডায় পড়াশোনা করেন। সেই সুবাদে প্রায় সময় কানাডা আর দেশে যাওয়া-আসার মাঝে থাকেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও শিল্পীর কোনো অবসর নেই, নেই গুডবাই বলার কোনো সুযোগ, এমনটাই জানিয়েছেন ববিতা।

জেডএস/এইচআই