ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০১ জুলাই ২০২৩ ০৪:৩৮
ছবি : সংগৃহীত
প্রাকৃতিক ঝর্ণা,
পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম উপাদান। আর বর্ষায় রূপের রাণী এই ঝর্ণাগুলি যেন, রূপ-যৌবন মেলে
ধরে মানুষকে কাছে টানে। দেশের নানা প্রান্তের এসব প্রাকৃতিক ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ
করতে ভ্রমণ পিপাসুর দল ছুটে যান। ঈদের ছুটির এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে চাইলেই ঘুরে আসা
যায় দেশেই দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি ঝর্ণা থেকে।
চট্টগ্রামের মিরসরাই
উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের উত্তর পাশে রয়েছে দেশের বহুল জনপ্রিয় পর্যটক
স্পট খৈয়াছড়া ঝর্ণা। এর বিশেষ আকর্ষণ হল এর নয়টি বিচ্ছিন্ন ধাপ। যা কিনা বাংলাদেশের
অন্য সব জলপ্রপাত থেকে এটিকে আলাদা করেছে। আর একই কারণে খৈয়াছড়াকে বাংলাদেশের ঝর্ণার
রানী বলা হয়।
একই ট্রেইলে একাধিক
ঝর্ণা দেখতে চাইলে চলে যেতে হবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের নাপিত্তাছড়ায়। এই একটি ট্রেইলে
পাওয়া যাবে মিঠাছড়ি, বাঘবিয়ানী, এবং বান্দরখুমসহ ছোট বড় নানা ঝর্ণা। এত ঝর্ণা একসাথে
থাকায় ট্রেইলটি ভ্রমণপ্রেমীদের নিকট খুবই জনপ্রিয়।
হামহাম বা চিতা
ঝর্ণা, বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের
গভীরে কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত বা ঝর্ণা। শ্রাবনের প্রবল
বর্ষনে যখন পুরো জঙ্গল ফিরে পায় তার চিরায়ত চিরসবুজ রুপ। হামহাম ঝর্ণাও তখন ফিরে পায়
তার আদিরূপ।
রাঙ্গামাটি থেকে
২৫ কিলোমিটার দূরত্বে শুভলং বাজারের পাশেই দেখা পাওয়া যায় শুভলং ঝর্ণার। বর্ষাকালে
প্রায় ১৪০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে বিপুল জলধারা আছড়ে পড়ে কাপ্তাই লেকে। ঝর্ণার কাছেই
আছে প্রায় ২০০০ ফুট উঁচু শুভলং বা টি-এন্ড-টি পাহাড়। এখানে বিছানো চমৎকার সিঁড়ি বেয়ে
চূড়ায় পৌঁছে দেখা যাবে সেনাক্যাম্প ও টি-এন্ড -টি টাওয়ার।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা
উপজেলার সাপমারা গ্রামে দেখা মিলবে তেরাং তৈকালাই ঝর্ণা। যাকে স্থানীয়রা সাপ মারা রিসাং
ঝর্ণা বলে ডাকে। খাগড়াছড়ি সদর থেকে এই ঝর্ণার দূরত্ব প্রায় ১১ কিলোমিটার, যা অতিক্রম
করতে প্রয়োজন হয় জীপ, মাইক্রো বা প্রাইভেট কার। সেখান থেকে মূল স্রোত দেখতে পাহাড়ি
রাস্তা ধরে কিছুটা পথ পায়ে হেটে এগিয়ে যেতে হয়।
সিলেটের জাফলং-এর
এক দারুণ মন্ত্রমুগ্ধতা মিশে আছে এই সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণায়, যাকে স্থানীয়রা নাম দিয়েছে
মায়াবী ঝর্ণা। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগোলেই এই নামের সার্থকতা
টের পাওয়া যাবে। বিএসএফের প্রহরায় বাংলাদেশিরা ভারতের সীমান্তে অবস্থিত এই মায়াবী ঝর্ণা
দেখতে যেতে পারে। এই অবিরাম ধারার মোট তিনটি ধাপ রয়েছে, যার মধ্যে তৃতীয় ধাপে এমন একটি
সুড়ঙ্গ রয়েছে যার অন্য প্রান্ত এখন পর্যন্ত আবিষ্কার সম্ভব হয়নি।
ঋজুক ঝর্ণাকে
মার্মা ভাষায় রী স্বং স্বং বলা হয়। বান্দরবানের রুমা বাজার থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫
কিলোমিটার। সাঙ্গু নদীর পাড়ে প্রায় ৩০০ ফুট উচু থেকে সারা বছরই এ জলপ্রপাতটির রিমঝিম
শব্দে পানি পড়ে। তবে বর্ষার সময় ঋজুক সাঙ্গুর বুকে এত বেশি পানি ঢালে যে প্রবল স্রোতের
তোড়ে জলপ্রপাতের ধারে পৌঁছতে এমনকি বড় ইঞ্জিনের নৌকাগুলোরও বেগ পেতে হয়। তখন ঋজুকের
সৌন্দর্য একেবারেই অন্য রকম। জলপ্রপাতের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই বর্ষার ফলার মতো শরীরে
এসে বিঁধে যাবে ঠান্ডা পানির ছিটা।
জেডএস/