ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০২ জুলাই ২০২৩ ০১:৪৩
পৃথিবীতে
এখনো এমন গোষ্ঠী আছে যারা একেবারেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। প্রযুক্তির শীর্ষে থাকা
খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই আছে এমন একটি জাতি যাদের কাছে বিজ্ঞান অচল। তারা অ্যামিশ জাতি।
আমেরিকার পেনসিলভানিয়ার ল্যানকাস্টার কাউন্টিতে প্রধানত অ্যামিশদের বসবাস। এরা বিশেষ
এক ধর্মীয় সম্প্রদায় যারা বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করে না। এদের
জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি নির্ভর।
অ্যামিশরা
গাড়িতে চড়ে না, বিদ্যুৎ ব্যবহার করে না, টিভি, কম্পিউটার এদের জীবনে খুব একটা প্রয়োজন
নেই। ওদের গ্রাম দেখলে মনে হবে ২০০-৩০০ বছর আগের। সুইজারল্যান্ডের এনাব্যাপটিস্ট ক্যাথলিক
চার্চ থেকে মূলত অ্যামিশদের উৎপত্তি। এদের প্রথম গোড়া পত্তন হয় ১৬৯০ সালের প্রথম দিকে
সুইজারল্যান্ডের জ্যাকব আম্মানের হাত ধরে। সুইজারল্যান্ড থেকে অ্যামিশরা আশ্রয় নেয়
জার্মানিতে। সেখানে শুরু হয় তাদের আরেক জীবন। কিন্তু জার্মানিতে অ্যামিশরা তাদের ধর্মীয়
বিশ্বাসের কারণে খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। পরে উত্তর আমেরিকার ওহাইও, কানাডা,
পেনসিলভানিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পাড়ি দেয় অ্যামিশরা।
সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে অ্যামিশরা আধুনিক সভ্যতা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তারা তাদের আশ-পাশের প্রতিবেশী
গ্রামের মানুষদের সঙ্গে পর্যন্ত মেশে না। অ্যামিশরা তাদের ছেলেমেয়েদের কে ৮ম শ্রেণীর
বেশি পড়াশুনা করায় না। তাদের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজেদের স্কুল চালায়।
অ্যামিশরা টিভি ত দূরে থাক গান পর্যন্ত শোনে না। বর্তমানে অ্যামিশদের জনসংখা প্রায়
২,৪৯,০০০ জন।
তারা নিজেরাই
নিজেদের চাহিদার ফসল চাষাবাদ করে। পুরুষ অ্যামিশরা মাঠে ভুট্টা, তামাক, সয়াবিন, বার্লি
আলুসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ করে। আর অ্যামিশ মেয়েরা কাপড় বোনে, ফুল আর ফলের চাষ করে।
এমনকি তাদের চাষাবাদ করার জন্য ট্র্যাক্টর পর্যন্ত নাই। তারা চাষাবাদ করে আদিম মানুষদের
মত। পশুপালন করে এবং তা দিয়ে ফসল ফলায়। শুনলে অবাক হবেন তারা নিজেদের কাপড় নিজেরা তৈরি
করে। তারা তাদের নিজেদের গৃহস্থালি কাজ পরিবারের সবার মাঝে ভাগ করে নেয়।
অ্যামিশদের বিশ্বাস, পৃথিবীতে এত পাপ আর সমস্যার একমাত্র কারণ হল প্রকৃতিবিরুদ্ধ হওয়া। তাই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানেই ঈশ্বরের কাছাকাছি থাকা। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক করে তুলেছে, দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছে ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের আইন মতে, আমিশরা কড়ায়-গন্ডায় সরকারকে প্রাপ্য খাজনা দিয়ে থাকলেও সরকারের কাছ থেকে বিনিময়ে কোনো সাহায্য আশা করে না। অ্যামিশরা অবসর ভাতা, চিকিৎসা ভাতা বা স্কুল ভাতা—কোনো কিছুই সরকারের কাছ থেকে নেয় না। মোট কথা, বৈষয়িক জীবনে অ্যামিশদের কোনো আগ্রহ নেই।
জেডএস/