ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০২ জুলাই ২০২৩ ০৬:১২
পুলিশের
গুলিতে ১৭ বছরের এক যুবক নিহতের জেরে বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স। ঘটনার ৫ দিন গড়ানোর
সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে পরিস্থিতি। গত রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইর
রাস্তায় জড়ো হতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। এরপর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষ
কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের থামাতে পুলিশ সেখানে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে।
এসময় সিটি মেয়রের গাড়ী হামলার মধ্যে পড়ে যায়। ২ বাচ্চাকে নিয়ে পালাতে গিয়ে আহত হন মেয়রের স্ত্রী। অবস্থা বেগতিক দেখে ধরপাকর শুরু করে পুলিশ। এসময় ৭১৯ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে ফলাসি পুলিশ। এরআগে, শুক্রবার রাতে ১৩০০ জন ও বৃহস্পতিবার রাতে ৯০০ জনকে আটক করা হয়। দেশটির সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে ৪৯২ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, ২ হাজার গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দেশব্যাপী তিন হাজার ৮৮০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে লুটপাটেরও।
গত মঙ্গলবার
প্যারিসের পশ্চিমদিকে নান্তেরে এলাকায় নাহেল এম নামের এক আলজেরিয়-বংশোদ্ভূত তরুণ গাড়ি
চালিয়ে যাচ্চিলেন। ওই সময় তাকে থামার নির্দেশনা দেয় পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থামার পর নাহেলের দিকে এক পুলিশ সদস্যকে পিস্তল
তাক করে রাখতে দেখা যায়। তবে নাহেল হঠাৎ করে গাড়ি টান দিলে পুলিশ সদস্য খুব কাছ থেকে
গুলি করে তাকে হত্যা করেন।
বুকে গুলিবিদ্ধ নাহেলকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। ঘটনার পর গুলিচালানো অফিসারকে হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়। এরপরই বিক্ষোভে নামেন দেশটির নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, নাহেল সাদা রঙের মানুষ না হওয়ায়— বর্ণবাদমূলক আচরণ থেকেই ওই পুলিশ সদস্য তাকে সরাসরি গুলি করেছেন।
জেডএস/