ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:৫৯
ছবি : সংগৃহীত
রবার্ট ওপেনহেইমার,
তার জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘ওপেনহেইমার’ বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
যার জীবনের গল্প নিয়ে এই সিনেমা, জানেন কী, সেই রবার্ট ওপেনহেইমার কে। এমন আরও কিছু
প্রশ্ন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে আগ্রহ। রোমাঞ্চে ভরা সেই রবার্ট ওপেনহেইমারকে নিয়েই
আমাদের গল্প। চলুন জেনে নেই বিস্তারিত।
ক্রিস্টোফার
নোলান নির্মিত ও কিলিয়ান মারফি অভিনীত ওপেনহেইমার সিনেমাটি, গত ২১ জুলাই মুক্তি পায়।
যার নাম নিয়ে সিনেমা সেই রবার্ট ওপেনহেইমার আসলে একজন পদার্থবিদ। পৃথিবীর সবচেয়ে বিধ্বংসী
অস্ত্র পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করেছিলেন। তাইতো তাকে বলা হয় ‘ফাদার অব অ্যাটোমিক বোম’।
একইসঙ্গে বলা হয়, ওপেনহেইমার এমন একজন ব্যক্তি যার হাত ধরে বদলে গিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
গতিপথ।
নিউইয়র্কের
এক জার্মান ইহুদি অভিবাসী পরিবারে ১৯০৪ সালে জন্ম ওপেনহাইমারের। ওপেনহাইমার ছিলেন খুবই
বুদ্ধিমান কিন্তু অত্যন্ত লাজুক। জার্মানিতে ১৯২৬ সালে গোয়েটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক
পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। এখান থেকেই পিএইচডি ও ফেলোশিপ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে
ফিরে ওপেনহাইমার প্রথম অধ্যাপনা শুরু করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে বার্কলেতে
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৪০ সালে জীববিজ্ঞানী ক্যাথরিন কিটি
হ্যারিসনকে বিয়ে করেন। পাঁচ ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা ওপেনহাইমার চিরকালই ছিলেন হালকা-পাতলা।
পারমাণবিক
বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যে প্রকল্প হাতে নিয়েছিল তার
নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট' আর সেই বোমা তৈরির প্রধান বিজ্ঞানী ছিলেন রবার্ট ওপেনহাইমার।
তার জীবনে ১৯৪৫ সালের ১৬ই জুলাই দিনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো
অঙ্গরাজ্যের ইয়োর্নাদা দেল মুয়ের্তো মরুভূমিতে এই দিনে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমার
পরীক্ষা হয়। এর কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন এ প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী ও
পরিচালক রবার্ট ওপেনহাইমার। বিস্ফোরণের কাউন্টডাউন শুরু হবার মুহূর্তে ওপেনহাইমার যেন
আরও উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়ছিলেন, তার শ্বাস পড়ছিল না। তার পরই ঘটলো সেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ।
একুশ কিলোটন টিএনটির ক্ষমতাসম্পন্ন সেই বিস্ফোরণ ছিল তখন পর্যন্ত পৃথিবীর বৃহত্তম।
১৯৬০-এর
দশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওপেনহাইমার তার অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বিস্ফোরণের
পরপরই তার মনে পড়েছিল হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ভাগবত গীতার একটি লাইন, ‘এখন আমি পরিণত হয়েছি
সাক্ষাৎ মৃত্যুতে, বিশ্ব ধ্বংসকারীতে।’ এর পরবর্তী দিনগুলোতে ওপেনহাইমারের মধ্যে একটা
বিষণ্ণতা ভর করেছিল। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরে ওপেনহাইমার আরও শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা
তৈরির বিরোধিতা করেছিলেন। এ কারণে ১৯৫৪ সালে তার বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার তদন্ত করে
এবং তার সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স কেড়ে নেয়। অবশ্য পরে ১৯৬৩ সালে তাকে এনরিকো ফার্মি পুরস্কার
দেয়। তবে ক্লিয়ারেন্স ফেরত দেওয়া হয় তার মৃত্যুর ৫৫ বছর পর।
ওপেনহাইমারের
ওপর ২০০৫ সালে ‘আমেরিকান প্রমিথিউস’ নামে একটি জীবনীগ্রন্থ লেখেন ইতিহাসবিদ মার্টিন
জে শেরউইন। হলিউডে ওপেনহাইমার নামের ছবিটি এ বইটিকে ভিত্তি করেই তৈরি। ওপেনহাইমার তার
বাকি জীবনে একদিকে তার কাজ নিয়ে গর্ব, অন্যদিকে এর পরিণাম নিয়ে অপরাধবোধ এই দুই সমান্তরাল
অনুভূতি নিয়েই বেঁচে ছিলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি গলার ক্যান্সারে মারা যান। ওপেনহাইমার বলেছিলেন,
‘একই ভুল পুনরায় না করাই হচ্ছে বিজ্ঞানের কাজ। এটা কবিতা নয়।’
জেডএস/