ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৫ আগস্ট ২০২৩ ০১:০৪



লোহার ফুসফুসে নিয়ে ৭০ বছর বেঁচে আছেন পল

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৫ আগস্ট ২০২৩ ০১:০৪


ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে থাকে। তেমনি আলেকজান্ডার পল নামের একজন ব্যক্তি ৭০ বছর ধরে লোহার ফুসফুস বুকে নিয়ে বেঁচে আছেন। তার পুরো জীবন লোহার বাক্সে কাটিয়েছেন। নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি, আইন পেশায় প্র্যাকটিসও করেছেন। অনুপ্রেরণা দিতে বই লিখেছেন এবং গিনেজ বুকেও নাম তুলেছেন। তবে পল আলেকজান্ডার ১৯৫২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত লোহার ফুসফুস নিয়েই বেঁচে আছেন।

তখনও পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কার হয়নি। পোলিওমায়েলাইটিস ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছিল আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৯৫২ সালে ভয়াবহ আকার ধারণ করে পোলিও। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ হাজারেরও অধিক শিশু পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। ৬ বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয় এই পল। সেই থেকে ফুসফুসের ক্ষমতা হারান পল। সব ধরনের চেষ্টা করেও যখন ব্যর্থ হচ্ছিলেন তখন চিকিৎসকরা লোহার ফুসফুসের কথা ভাবেন। শেষ চিকিৎসা হিসেবে তারা পলকে ট্র্যাকাউট্রমি করে একটা লোহার ফুসফুসে রেখে দেন। বদ্ধ ট্যাংক সেসময় ব্যবহৃত হতো পোলিও রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে।

পলের বর্তমান বয়স ৭৬। সেই ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসকরা পলকে শ্বাস নেয়ার বিভিন্ন কৌশল শেখাতেন। সেই কৌশল রপ্ত করে এক সময় পল স্কুলে যাওয়া শুরু করেন হুইলচেয়ার ব্যবহার করে। এরপর অর্থনীতি ও ফিন্যান্সে পড়ার জন্য টেক্সাসে সাউদার্ন মেথোডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এর মধ্যে ফুসফুস ছাড়া দুই থেকে তিন ঘণ্টা চলতে শেখেন তিনি। ফলে মা-বাবার কাছ থেকে দূরে গিয়ে টেক্সাসে একাই থাকতেন তিনি। তার দেখভালের দায়িত্ব নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পল ১৯৮৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এর দুই বছর পর তিনি আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। হুইলচেয়ারে বসেই আদালতে ক্লায়েন্টদের প্রতিনিধিত্ব করতে থাকেন তিনি। প্রায় ৩০ বছর ধরে পলের দেখাশোনা করেন ক্যাথি। খাবার তৈরি, চুল কাটা, নখ কাটা, পোশাক পরানোসহ সব কাজ করেন তিনি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও বাক্সে বন্দি হয়ে পড়েন পল। লোহার ফুসফুসের বাইরে এখন তিনি প্রায় অচল।

বর্ণময় জীবন পলের। প্রেমও এসেছিল তার জীবনে। উচ্চ বিদ্যালয় ও স্নাতক শেষ হওয়ার পর ডালাসের সাউদার্ন মেথডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এই সময়েই তিনি ক্লেয়ার নামে এক নারীর প্রেমে পড়েন। তবে ক্লেয়ার মা তাদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে তারপর আর বিয়ে করার চিন্তা কোনও দিনও করেননি পল। জীবনের শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কখনও হাল ছাড়েননি। মরে যাবার হাজারো কারণ থাকলেও পল বেচে আছেন নিজেকে ভালোবেসে, নিজের জীবনকে ভালোবেসে। এই পৃথিবীতে কত রকমভাবে যে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, পল এরমধ্যে একটা উদাহরণ।

জেডএস/