ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১২ আগস্ট ২০২৩ ০৩:২৭



ফেসবুকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে মানসিক ক্ষতির সম্পর্ক নেই : গবেষণা

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১২ আগস্ট ২০২৩ ০৩:২৭


ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতির কারণসাধারণ এই ধারণার ভিত্তিতে অনেক গবেষক যুক্তি দেন। যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য আইন নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে ফেসবুকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউশনের (ওআইআই) এক গবেষণা। এই জরিপ গবেষণায় ৭২টি দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউশনের এই গবেষণা শুধু ফেসবুককে নিয়ে করা হয়েছে। মেটা কম্পানির অন্য প্লাটফর্ম, যেমনইনস্টাগ্রাম এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ওআইআইয়ের অধ্যাপক এন্ড্রু প্রজিবিলস্কি বলেন, প্রতিটি দেশ যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সয়লাব, তখন দেশের মানুষের মানসিক অবস্থা কেমন হবে! মানুষের সাধারণ ধারণাএটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। কিন্তু গবেষণায় পাওয়া ডেটা পর্যবেক্ষণ করে এই ধারণার পক্ষে প্রমাণ মেলেনি।

এর আগে ওআইআইয়ের গবেষণায় কিশোরদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কিছুটা যোগসূত্র মিলে। গবেষণাটি শুধু ফেসবুকের জাতীয় পর্যায়ের প্রভাব নিয়ে করা হয়েছে। তবে পিছিয়ে পড়া (দুর্বল) জনগোষ্ঠী নিয়ে গবেষণার কোনো ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। প্রজিবিলস্কি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ভালোভাবে বুঝতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ডেটা প্রয়োজন।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোনের মতে, এই বিলের সঙ্গে গবেষণার প্রাসঙ্গিকতা কম। গবেষকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গবেষণায় স্ক্রিনটাইম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময়ের বিষয়ে উদ্বেগের শক্তিশালী প্রমাণ নেই। এটি এতই সরল যে বর্তমানের কোনো আইন ও বস্তুনিষ্ঠ বিতর্কের ক্ষেত্রে খুবই কম কাজে আসবে। গবেষণায় তরুণদের আলাদা গ্রুপে রাখা হয়নি। ফলে শিশুদের ফেসবুকের ব্যবহারের বিষয়টিও আসেনি।

তবে গবেষকদের দাবি, ফেসবুকের দেওয়া ডেটার ভিত্তিতে অধ্যাপক প্রজিবিলস্কি ও সহগবেষক এই গবেষণাটি করেছেন। দুজন গবেষকই স্বাধীনভাবে গবেষণা করেছেন। কোনো প্রযুক্তিবিষয়ক কম্পানি এই গবেষণায় অর্থায়ন করেননি। বাথ স্পা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ও যোগাযোগ বিজ্ঞানের অধ্যাপক পিটার ইচেলসের মতে, এই গবেষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণ ও প্রভাব নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রযুক্তি কম্পানির কাছে গবেষকদের এই ডেটা মূল্যবান সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে।

জেডএস/