ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৮ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে মৌসুম শুরুর আগেই বীজ আলুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সিন্ডিকেট করে কারসাজির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ৬০ টাকার বীজ ৯০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এমনকি অনেক চাষি শেষ পর্যন্ত বীজ পাবেন কিনা, তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন।
কৃষি বিভাগের বক্তব্য
কৃষি বিভাগ দাবি করেছে, বীজ আলুর সংকট নেই এবং হবেও না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ বীজ মজুত রয়েছে। ৫৭,৭৫০ মেট্রিক টনের চাহিদার বিপরীতে মজুত আছে ৫৯,৭০০ মেট্রিক টন। তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ
কৃষকদের দাবি, পর্যাপ্ত জোগান থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাদের দোকান ও গুদামে বীজ রাখছেন না। নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রতি মণ বীজ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বেশি মূল্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
পবা উপজেলার এক চাষি সাগর আলী জানান, মৌসুমের শুরুতেই সংকট দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ৬০ টাকার বীজ ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করছে।
সিন্ডিকেট
রাজশাহী কোল্ডস্টোরেজ মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বক্কর জানান, বীজের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে। পার্শ্ববর্তী নওগাঁ, নাটোর, এবং কুষ্টিয়ায় সংকট থাকার কারণে কিছু মজুত অন্য জেলায় পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের কার্যক্রম
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকা জানিয়েছেন, বাজার মনিটরিং এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের লোক দেখানো জরিমানা সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর হচ্ছে না।
খাবার আলুর দামও বেড়েছে
খাবার আলুর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ মৌসুমের শুরুতে পাইকারি দাম ছিল ৫৫ টাকা।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন মনে করেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কড়াকড়ি নজরদারির মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব।
এসএ/