ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২১ নভেম্বর ২০২৪ ১০:১৩
ছবি: সংগৃহীত
বরেন্দ্র অঞ্চলে আমনের বাম্পার ফলন কৃষকদের মাঝে নিয়ে এসেছে নতুন স্বপ্ন। মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানে ভরে উঠেছে। কেউ ধান কেটে বাড়ি তুলছেন, কেউ মাড়াইয়ে ব্যস্ত। বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসবও এর মধ্যেই উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা শুরুতে অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে শঙ্কিত ছিলেন। তবে প্রকৃতির প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবার আমনের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এবারের মৌসুমে ৮৪,১০৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টনের বেশি।
কৃষকদের স্বস্তি
ধানের ভালো ফলন ও বাজারে উচ্চ দামের কারণে কৃষকদের মুখে হাসি। বাজারে নতুন ধানের মণ ১,৩০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক আফজাল হোসেন জানান, তার আড়াই বিঘা জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। পবা উপজেলার কৃষক বারিউল হক বলেন, "এবার প্রতিটি বিঘায় ২০ মণের বেশি ফলন হয়েছে, যা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক স্বস্তি এনেছে।"
নবান্ন উৎসবের জৌলুস
নবান্নের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে চলছে উৎসব। সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের উদ্যোগে পিঠা উৎসব, নাচ-গান আর আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে দিয়ে নবান্ন পালিত হয়।
গোদাগাড়ীর চৈতন্যপুরে জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক মনিরুজ্জামান মনিরের আয়োজনে ধান কেটে আদিবাসী মেয়েরা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, "২০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে, ফলন চমৎকার হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।"
ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
বরেন্দ্র অঞ্চলের নবান্ন শুধু কৃষকদের জন্য নয়, বরং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন ধান কাটা থেকে শুরু করে পিঠা-পুলির আয়োজন, এ সবকিছুই তুলে ধরে গ্রামীণ জীবনের এক প্রাণবন্ত চিত্র।
এই উৎসব শুধু ধান কাটার নয়, বরং কৃষকের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যের আনন্দেরও প্রতীক। বরেন্দ্র অঞ্চলে নবান্নের আমেজ তাই বাঙালির ঐতিহ্যের সাথেই মিশে থাকে।
এসএ/