ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২৩ নভেম্বর ২০২৪ ০৬:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
মুন্সীগঞ্জে আমদানি করা বীজ আলু এখন সোনার হরিণের মতো দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমের শুরুতে ৫০ কেজি বীজ আলুর দাম ১১ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা কিনতে লাগছে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ। এর পাশাপাশি সারের দামও বেড়েছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
বীজ আলুর আকাশছোঁয়া দাম
মুন্সীগঞ্জে আলু রোপণের মৌসুম শুরু হয়েছে। কৃষকরা বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর জমি প্রস্তুত করলেও উন্নত বীজের জন্য হিমশিম খাচ্ছেন। আমদানি করা হল্যান্ডের বীজ আলুর ৫০ কেজির বাক্সের দাম বর্তমানে ২৫ হাজার টাকার ওপরে। অথচ গত বছর এ দাম ছিল মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা।
সরকারি সংস্থা বিএডিসি ৪০ কেজির বীজ আলুর বস্তা সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করছে, তবে কৃষকদের মতে আমদানি করা বীজের মান তুলনামূলক ভালো। ফলে দাম বেশি হলেও আমদানি করা বীজের চাহিদা বেশি।
সারের দামেও অস্বস্তি
বীজ আলুর মতো সারও বিক্রি হচ্ছে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেশি দরে।
কৃষকদের ক্ষোভ ও ডিলারদের ব্যাখ্যা
কৃষকরা অভিযোগ করছেন, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে বীজ আলুর দাম এভাবে বেড়েছে। তবে ডিলাররা বলছেন, বেশি দামের পেছনে দফায় দফায় হাতবদলের প্রভাব রয়েছে। ডিলার হাজী মো. শাহিন খান জানান, প্রতি বাক্স বীজ আলু ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পদক্ষেপ
মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, বীজ আলুর বস্তার গায়ে নির্ধারিত দাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে অতিরিক্ত দামে বিক্রি রোধ করা সম্ভব হবে।
লক্ষ্যমাত্রা ও চাহিদা
এবার জেলায় ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে বীজ আলুর চাহিদা ৭৯ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন হলেও, আকাশ ও নৌপথে আমদানি করা হয়েছে মাত্র ৬০০ মেট্রিক টন।
এসএ/