ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:১৫



আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০ পরিবার এখন ঝুপড়িতে!

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:১৫

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০ পরিবার এখন ঝুপড়িতে!

ছবি: সংগৃহীত

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় নীলিমা আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে আশ্রিত ২০ পরিবারের ঘর ভেঙে জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এদিকে প্রশাসন পুনর্বাসন না করায় বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো। এতে পরিবারগুলো দীর্ঘদিন স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থেকেছে। সেখানে আশ্রয় না পেয়ে বাধ্য হয়ে ২৪ দিন পর উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় ঝুপড়ি তুলে তীব্র শীতের মধ্যে বসবাস করছে তারা।

জানা যায়, পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড আদর্শ গ্রামে ২০১৭ সালে সরকারি অর্থায়নে নিলিমা আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে ২০টি ঘর বরাদ্দ দেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরপর থেকে দীর্ঘ সাত বছর এই দুস্থ অসহায় ২০ পরিবার এসব ঘরে বসবাস করে আসছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে এরপর থেকেই আশ্রিত ২০ পরিবারকে জায়গা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হুমকি দেয় স্থানীয় যুবদলের কতিপয় নেতাকর্মীরা। তাদের হুমকিতে ঘর ছেড়ে না যাওয়ায় গত ১৭ নভেম্বর রবিবার ও ১৮ নভেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে ভাঙচুর করে লুটে নেওয়া হয় তাদের ঘরের দরজা-জানালা ও টিনের চাল। এতে অসহায় পরিবারগুলোকে পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। কিন্তু এসব পরিবার স্বজনদের বাড়িতেও আশ্রয় পায়নি। বাধ্য হয়ে খালি ভিটায় ফিরে এসেছে। বর্তমানে ঝুপড়ি ঘর তুলে সেখানেই বসবাস করছে তারা।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, নীলিমা আশ্রয়ণ প্রকল্পের উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করছেন মিজান-বকুল দম্পতি।

এসময় মিজান বলেন, সবকিছু দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে। দুর্বৃত্তরা আমাকে পুরো নিঃস্ব করে দিয়েছে। ২০১৭ সালে পাওয়া আশ্রয়ণের ঘরটি আর নেই। গত ১৭ নভেম্বর দুর্বৃত্তরা আমার ঘরের চাল-বেড়াসহ সবকিছু নিয়ে গেছে।

আবাসনে ঝুপড়ি ঘরে বসবাসকারী জেলে বাবুল বলেন, মেঘনার স্রোতে ভেঙে যায় আমাদের বসতভিটা। পরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এরপর ২০১৭ সালে সরকারিভাবে নীলিমা আশ্রয়ণে ঘর পাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলাম। কিন্তু গত ১৭ নভেম্বর দুর্বৃত্তরা আমার আশ্রয়ণের ঘরের দরজা-জানালা, টিনের চালা ভেঙে দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে।

এমন দুর্দশাগ্রস্ত চিত্র দেখা গেছে অন্য পরিবারগুলোরও। দুর্বৃত্তরা জায়গা থেকে উচ্ছেদ করায় নিরুপায় হয়ে পড়েছেন তারা। একদিকে খাদ্যের অভাব, অন্যদিকে বাসস্থান তৈরির দুশ্চিন্তা ভর করেছে ঘরহীন ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর মাঝে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তা ছাড়া জায়গাটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের এবং তাদের তদন্তাধীন রয়েছে। জায়গাটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। তবে সরকারিভাবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

/এসবি