ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৮:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গায় আলমডাঙ্গা উপজেলার ৩৭ জনকে ইতালির নাম করে লিবিয়ায় আটকে রেখে টাকা দাবির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনেরা। তাদের বাড়ি উপজেলার বেলগাছি, খেজুরতলা ও চরযাদবপুর গ্রামে।
ভুক্তভোগী এসব পরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গৃহবধূ পলি খাতুন। এ সময় ভুক্তভোগী কয়েকজনের স্বজন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
স্বজনেরা জানান, ইতালিতে এক থেকে দেড় লাখ
টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের সদস্যরা তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে
১৫ লাখ টাকা করে নেন। কিন্তু তাঁদের ইতালিতে না নিয়ে প্রথমে দুবাই ও পরে লিবিয়ায় নিয়ে
জিম্মি করেন। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। জিম্মি অবস্থায় খাবারের
জন্য প্রতি সপ্তাহে জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হয়। জিম্মিদশা থেকে
মুক্তির জন্য পরিবারপ্রতি ২২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকার জন্য ভিডিও কলে তাঁদের
ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। হাত-পায়ের নখ তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়। এ অবস্থায়
তাঁরা উভয়সংকটে পড়েছেন।
স্বজনেরা অভিযোগ করেন, উপজেলার বেলগাছি
গ্রামের মো. জান্টুর ছেলে প্রবাসী মো. সাগর মানব পাচার চক্রের মূল হোতা। জান্টু ও তাঁর
স্ত্রী আমেনা খাতুন, ছেলে জীবন আহমেদ, ভাই মো. ঠান্টু ও ঠান্টুর স্ত্রী বেলগাছি সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেদানা খাতুন ও ছেলে জীম স্থানীয় দালাল। সাগরের
পক্ষে ওই সাতজন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, মানব পাচারের মামলাটি আমলে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের
কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। মামলার পর আসামিরা
আত্মগোপনে চলে গেছেন।
/এসবি