ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৭:০৩
ছবি: সংগৃহীত
‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’—অমর এই পঙ্ক্তির স্রষ্টা কবি হেলাল হাফিজ আর নেই। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) শাহবাগের সুপার হোম হোস্টেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব
ভূঁইয়া সারাবাংলাকে কবি হেলাল হাফিজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বিকেল
পৌনে ৪টায় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কবি হেলাল হাফিজ আর নেই। জাতীয় প্রেস ক্লাব
সদস্য হেলাল হাফিজ কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন।’
১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ
‘যে জলে আগুন জ্বলে’ দিয়েই মানুষের হৃদয়ে আসন করে নেন হেলাল হাফিজ।
কেবল কবিতার পাঠকের নিরিখে নয়, যে ব্যক্তি
অতটাও সাহিত্যের খোঁজখবর করেন না, এমন অনেকের হৃদয়েও দোলা দিয়েছে হেলাল হাফিজের পঙ্ক্তি।
‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রতিটি কবিতার শেষে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী
কবিতাগুলো লেখা হয়েছে ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে।
লড়াইয়ে, সংগ্রামে, প্রেমে-বিরহে, দ্রোহে
যাপিত জীবনের পরতে পরতে হেলাল হাফিজ স্পর্শ দিয়ে যান। ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’র মতো ‘অগ্ন্যুৎসব’
কবিতাও শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আগুন জ্বেলে দেয়। এ কবিতায় কবি বলেছেন, ‘ছিল তা এক অগ্ন্যুৎসব,
সেদিন আমি/ সবটুকু বুক রেখেছিলাম স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রে? জীবন বাজি ধরেছিলাম প্রেমের
নামে/ রক্তঋণে স্বদেশ হলো,/ তোমার দিকে চোখ ছিল না/ জন্মভূমি সেদিন তোমার সতীন ছিলো।’
কেবল মুক্তিযুদ্ধ কিংবা গণ-অভ্যুত্থানের মতো প্রেক্ষাপটে নয়, যেকোনো অন্যায়ে-শোষণে-অবিচারে
হেলাল হাফিজের এ উচ্চারণ সবার হয়ে ওঠে।
‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থই হেলাল
হাফিজকে দিয়েছে অসামান্য খ্যাতি। এরপর দীর্ঘদিন আর কোনো বই বের করেননি তিনি। ২০১২ সালে
‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের কবিতার সঙ্গে কিছু কবিতা যুক্ত করে প্রকাশ করা হয়
তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। সর্বশেষ ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় তৃতীয় কবিতার
বই ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’।
এত কম কবিতা লিখে এত খ্যাতি পাওয়ার নজির
বাংলাদেশের সাহিত্যে নেই।
/এসবি