ঈশ্বরদী প্রতিনিধি

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০১:২৮



খাস জমি দখল নিতে যুবদলের দুপক্ষের সংঘষে আহত ১

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০১:২৮

খাস জমি দখল নিতে যুবদলের দুপক্ষের সংঘষে আহত ১

পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিমুলের ছবি আছে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া চরের (পদ্মানদীতে জেগে ওঠা) সরকারি কয়েক হাজার খাস জমি ও জমির ফসলের দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনায় যুবদলের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আড়মবাড়িয়া চর ও আড়মবাড়িয়া স্কুল পাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

আহত যুবদলের কর্মীর নাম শিমুল (২৫), তিরি ওই এলাকার রফিক আলীর ছেলে। এছাড়া, অপহরন করা হয়েছে মহিষের এক বড় ব্যবসায়ীকে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

এলাকাবাসি জানায়, আড়মবাড়িয়া এলাকার আকছেদ মৃধার ছেলে স্থানীয় যুবদলকর্মী জুয়েল মৃধা পতিত সরকারের পর সাঁড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদারের ভাই ও ভাতিজাদের তাড়িয়ে  আড়মবাড়িয়া চরের সরকারি খাস জমির কয়েক শত একর জমি দখলে নেন। সেখানে খেসারি বপন করেন। খেসারিসহ সেই জমি দখল নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

 উপজেলা যুবদলের সদস্য ও আড়মবাড়িয়া বাজার এলাকার যুবদল নেতা মাদক, মারামারিসহ একাধিক মামলার আসামী সোহান হোসেন বিপু ওরফে ল্যাংড়া বিপু। এই নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল।

সুত্র মতে, কয়েকদিন আগে জুয়েল চরের সেই জমির খেসারিসহ ঘাসের মাঠ মহিষকে খাওয়ানোর চুক্তিতে মহিষের বাতানের মালিক কুষ্টিয়ার রায়টা এলাকার জৈনক রেজাউল ব্যাপারির নিকট ১০-১২ লাখ টাকায় বিক্রয় করে দেন। ঘটনার দিন বিকেলে ল্যাংড়া বিপু দুটি নৌকাযোগে সশস্ত্র ২৫-৩০ জন লোকজন নিয়ে খেসারিসহ জমি দখল করতে যায়। এই সময় রেজাউল ব্যাপারি রাখালদের নিয়ে খেসারির জমিতে মহিষকে চড়াতে ছিলেন। তখন ল্যাংড়া বিপু তাকে আটক করে নৌকায় তুলেন। এই খবরে জুয়েলও সশস্ত্র লোকজন নিয়ে নৌকা যোগে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল গুলাগুলি শুরু হয়ে যায়।

এলাকাবাসীর দাবী, সশস্ত্র গ্রুপ দুটি পদ্মানদীর মধ্যে ও আড়মবাড়িয়া নদীরঘাটে অন্তত ৫০-৬০ রাউন্ড গুলি বর্ষন করে। এতে বিপুর পক্ষের লোক শিমুলের বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ সময় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পদ্মানদীর পাড়, স্কুলপাড়া ও আড়মবাড়িয়া বাজার এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ল্যাংড়া বিপু পতিত সরকারের পর থেকে পদ্মানদীর আড়মবাড়িয়া পদ্মানদীর চর থেকে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রয় করে আসছেন। একই সঙ্গে আড়মবাড়িয়া, লালপুরে ফেন্সিডিল, ইয়ারা বিক্রয় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। আড়মবাড়িয়া বাজারেও অবৈধভাবে খাজনা আদায় করছেন। এসব ঘটনায় চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে আড়মবাড়িয়া বাজারে নিজ কার্যালয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতও হন বিপু।

এ ব্যাপারে জানতে যুবদলকর্মী জুয়েল মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রেরিত ক্ষুদে বার্তারও কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপার জানতে মোবাইলে সোহান পারভেজ বিপু ওরফে ল্যাংড়া বিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনেক কল রিসিভ করেননি।

ঘটনাস্থল থেকে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থ এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে  উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে গুলাগুলিসহ অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান করছে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া শিমুল পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

/এসবি