ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৫:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট নগরীতে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে অপহরণ করে নিয়ে কুপিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। পরে বড় অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার
(১২ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর সুবিদবাজার এলাকা থেকে তিনি অপহৃত হন এবং পরে ওই দিন রাত
সাড়ে ৩টার দিকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সাগরদিঘীর পাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। সিলেটে
চিকিৎসা নিয়ে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে তিনি ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান এবং একটি
অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে
তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
চিকিৎসা
নেওয়া বেসরকারি আল হারামাইন হাসপাতালের পরিচালক ডা. চৌধুরী নাহিয়ান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার
ভোর ৪টার দিকে মিসবাহ সিরাজকে হাসপাতালে আনা হয়। এরপর তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়।
তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে জখম রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় তার স্বজনরা জানিয়েছেন,
তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে শুনেছি তিনি
ঢাকায় চলে যান।’
সূত্র জানায়,
অপহৃত হওয়ার আগে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে সুবিদবাজার এলাকায় একটি
বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকটি মোটরসাইকেল আরোহী যুবক তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময়
অস্ত্রের মুখে অন্য একটি অটোরিকশায় তাকে তুলে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৩টা সাগরদিঘীর পাড়
এলাকায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে
নগরীর সোবহানীঘাটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই তার শরীরে অস্ত্রোপচার
করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। পরে শুক্রবার সকালে তিনি
ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের মেয়ে মুনতাহা আহমদ জানিয়েছেন, তার বাবার অবস্থা ভালো না। উন্নত
চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তিনি তার বাবার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
সিলেট মহানগর
পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাডভোকেট মিসবাহ সিরাজের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা
রয়েছে। শুনেছি কে বা কারা তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ গুরুত্ব
সহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
/এসবি