ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:৩০



ঢাবি শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:৩০

ঢাবি শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে হামলা

ছবি: সংগৃহীত

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির অফিসে ঢুকে একদল দুর্বৃত্ত হামলা ও ভাঙচুর করেছে, এমন অভিযোগ করেছে শিক্ষক সমিতি।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর)  রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে শিক্ষক সমিতির রুমে ঢুকে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা।

তিনি জানান, শুক্রবার  রাত ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অফিসে জোর করে ২০-৩০ জনের একটি দল শিক্ষক সমিতির অফিসে ঢুকে পড়ে। এ সময়  ভাঙচুরসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য রাখা ফুল ছিঁড়ে ফেলা হয়।  একারণে শনিবার সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  শিক্ষক সমিতি। কে বা কারা হামলা করেছে ঠিক বলতে পারছি না, বলে তিনি জানান।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে শেখ মুজিবুর রহমানের ছিড়ে ফেলা ছবি পড়ে রয়েছে। ফুল এবং অন্যান্য ছোটখাটো কিছু জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে রয়েছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের নামফলক থেকে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভুঁইয়া ও অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, বেশ কয়েকজন আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে। তারা আমাদেরকে গালিগালাজ করেছে, দরজায় লাথি মেরেছে। অফিসের ম্যানেজারকে মারতে পর্যন্ত গিয়েছে। এটা শিক্ষকদের অবমাননা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ৫৩ বছরের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আর কখনো ঘটেনি। এত আন্দোলন হয়েছে তবুও এখানে কখনো কোন সমস্যা হয়নি।

তিনি বলেন, আমি আমার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলব-এখানে তো শিক্ষকরাই থাকে। আর প্রশাসনের উচিত এর তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা।

আজ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ খান, সহকারী প্রক্টর ড. রফিকুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপাচার্য শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে বলার সাথে সাথে আমরা প্রক্টরিয়াল টিম পাঠিয়েছি। আমি ছাত্রদেরকে বলতে চাই, আমাদের ছাত্র-জনতার যুক্তিসংগত কারণেই ক্ষোভ আছে। কিন্তু সেই ক্ষোভের যেন অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশ না হয়। একটা পদ্ধতিগত বা আইনগতভাবেই আমাদের যেটা করার ওভাবেই আমরা করব। অনিয়ন্ত্রিতভাবে যেন বহিঃপ্রকাশ না ঘটে।

তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশ যাতে না হয় সেজন্য আমাদের উভয় পক্ষেরই সহনশীলতার প্রয়োজন আছে। আমরা খুবই নাজুক একটা সময় পার করছি। দেশ একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। আমাদের সর্বোচ্চ বিচার বিবেচনার প্রয়োজন আছে।

/এসবি