ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৮:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীর বেলাবতে সাফিয়া বেগম নামে ৭০ বছর বয়সী মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে তোফাজ্জল হোসেন সুজনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে বেলাব উপজেলার নিজ বাড়ি হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার
দুপুরে কুপিয়ে আহত করার পর শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাফিয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তার তোফাজ্জল হোসেন সুজন বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামের গ্রামের মৃত হোসেন আলীর
ছেলে। নরসিংদীর সহকারি পুলিশ সুপার (বেলাব-রায়পুরা সার্কেল) আফসান আল আলম এ তথ্য নিশ্চিত
করেছেন।
পুলিশ জানায়,
বৃদ্ধার দুই ছেলে তৌহিদ ও তোফাজ্জলের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার
দুপুরে বাড়ির উঠান ঝাড়ু দেওয়ার সময় তুচ্ছ ঘটনার জেরে মা সাফিয়া বেগমকে গালিগালাজ করতে
থাকেন ছেলে তোফাজ্জল হোসেন সুজন। গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে তোফাজ্জল হোসেন সুজন ঘরে
থাকা দা নিয়ে এসে বৃদ্ধা মায়ের মাথায় কুপিয়ে আহত করে। এ সময় হাতে থাকা লাঠি দিয়েও বৃদ্ধাকে
পেটানো হয়। তার চিৎকারে মাকে বাঁচাতে ছুটে আসে আরেক ছেলে তৌহিদ হোসেন। এ সময় তোফাজ্জল
হোসেন সুজনের স্ত্রী রেখা আক্তার ও ছেলে আসিফ তৌহিদ হোসেনকেও পিটিয়ে আহত করে।
স্থানীয়রা
আহত সাফিয়া বেগম ও তৌহিদ হোসেনকে উদ্ধার করে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি
করেন। পরে বৃদ্ধা মা সাফিয়া বেগমের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে
নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় স্বজনরা বৃদ্ধাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে নিয়ে আসেন নরসিংদীর
১০০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ও পরে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় শনিবার ভোরে বৃদ্ধা সাফিয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায়
বৃদ্ধার ছোট ছেলে আহত তৌহিদ হোসেন বাদী হয়ে বেলাব থানায় হত্যা মামলা করেন।
নরসিংদীর
সহকারি পুলিশ সুপার (বেলাব-রায়পুরা সার্কেল) আফসান আল আলম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করেছি, ছোট ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে মারামারির মামলা হলেও মারা যাওয়ার পর হত্যা
মামলার ধারা সংযুক্ত করা হয়। ১নং আসামি তোফাজ্জল হোসেন সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতালে পাঠানো
হয়েছে।’
/এসবি