ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১১ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:০৩
ছবি: সংগৃহীত
ছোট্ট একটি ধন্যবাদ, একটুখানি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাবোধের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ‘ধন্যবাদ’ যেকোনো নেতিবাচক মুহূর্তকে এক পলকে ইতিবাচক করে তুলতে পারে। গবেষণা বলছে, কৃতজ্ঞ মানুষ অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে অধিক সুখী। যেকোনো সম্পর্ক সুন্দরভাবে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তারা অনেক বেশি এগিয়ে। কৃতজ্ঞতাবোধ মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমায়। ঘুমের মান বৃদ্ধি করে। দেহে হ্যাপি হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়।
আজ ১১ জানুয়ারি,
ধন্যবাদ দিবস (থ্যাংকইউ ডে)। যে মানুষগুলো আপনার জীবনকে সুন্দর করে তুলেছে তাদেরকে
আজ ধন্যবাদ জানাতে পারেন। বলুন, পাশে থাকার জন্য ' ধন্যবাদ'।
আদ্রিয়েন
সু কুপারস্মিথ নামের যুক্তরাষ্ট্রের একজন ‘উদ্যাপন গুরু’র উদ্যোগে দিনটির চল হয়। ১৯৯৪
সালে তার ব্লগে ‘ধন্যবাদ দিবস’ পালনের ধারণা তুলে ধরেছিলেন তিনি।
প্রাচীনকাল
থেকেই সমাজের মানুষ একে অপরের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ করে আসছে। মিশরীয়রা প্যাপিরাস
শিটে লিখতেন এবং চীনারা কাগজে লিখতেন। তারা বন্ধুদের এভাবে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতেন।
'ধন্যবাদ' শব্দটির উৎপত্তি ৪৫০ থেকে ১১০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বলে মনে করা হয়। ১৪০০-এর
দশকে ইউরোপীয়রা পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা কার্ড বিনিময় শুরু করেন।
ধারণা করা হয় তখন এসব কার্ডে 'ধন্যবাদ' বা 'থ্যাঙ্কস' লেখার প্রচলন শুরু হয়েছিল।
ইউরোপীয়রা
শুভেচ্ছা কার্ড ব্যবহার শুরুর অনেক পরে জার্মান লুই প্রাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত
হন। ১৮৭৩ সালের ক্রিসমাসে তিনি ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি ও বিক্রি
করেন। ১৮৭৪ সালে তিনি পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিসমাস কার্ড তৈরি ও বিক্রি করেন। তারপর
থেকে এগুলোর চাহিদা বাড়তেই থাকে। কিন্তু, 'ধন্যবাদ' বলার অভ্যাসটি ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীর
বাণিজ্যিক বিপ্লবের সময় শুরু হয়েছিল। তখন এটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির মাঝে খুবই জনপ্রিয়
হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে অফিস থেকে শুরু করে দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে। গত ৫০০ বছর ধরে এর ব্যবহার
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
দিনটি উদযাপনের
সবচেয়ে ভালো উপায় পছন্দের মানুষকে লিখুন 'তোমাকে ধন্যবাদ'। ফেসবুকের ইনবক্সে, কিংবা
মেইলে তাকে শুভেচ্ছা জানান। কোনো বিশেষ দিনের কথা স্মরণ করিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে
লিখুন 'তোমাকে ধন্যবাদ'। মনে রাখবে ধন্যবাদ একটি জাদুকরী শব্দ। আর এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস
বাড়ায়।
/এসবি