ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:২৬



লিবিয়া উপকূলে নিহতদের মধ্যে ১০ জনই মাদারীপুরের

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:২৬

লিবিয়া উপকূলে নিহতদের মধ্যে ১০ জনই মাদারীপুরের

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত ২৩ জনের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে দুজন সম্পর্কে মামা ও ভাগ্নে। এ ঘটনায় শোক নেমে এসেছে পুরো উপজেলায়।

এ ঘটনায় জড়িত দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্বজন ও এলাকাবাসী। পুলিশ বলছে, এ ব্যাপারে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা। আর নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের হাসান মাতুব্বর ও কুলসুম বেগমের ছেলে টিটু হাওলাদার পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি পাড়ি জমাতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মারা যান। মোবাইলে ছেলের মৃত্যুর ছবি দেখে সংবাদে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তারা। ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে বার বার মুর্ছা যান। শোকে স্তব্দ হয়ে আছে টিটু হাওলাদারের মামা আবুল বাশার আকনের বাড়িতেও।

শুধু টিটু হাওলাদারের পরিবারই নয়। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ১০ যুবকের নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের স্বজনরা জানায়, দালালদের খপ্পরে পড়ে গত জানুয়ারি মাসের শুরুতে ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়ে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সুন্ধিকুড়ি গ্রামের সাগর বিশ্বাস, আশীষ কীর্তনীয়া, সাগর বাড়ৈ। শাখারপাড়ের সজীব মোল্লা, সাদবাড়িয়ার রাজীব হোসেন, বৌলগ্রামের অনুপ সরকার ও নৃপেন কীর্তনীয়া, গোবিন্দপুর গ্রামের ইনসান শেখ ও আবুল বাশার। পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের টিটু হাওলদার ও গোবিন্দপুর গ্রামের আবুল বাশার সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। আবুল বাশার লিবিয়া কয়েক মাসে আগেই গিয়েছিলেন। পরে যান তার ভাগ্নে টিটু হাওলাদার। গত ২৪ জানুয়ারি লিবিয়া থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রা করেন তারা। মাঝপথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারায় ২৩ জন। এর মধ্যে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার এই ১০ তরুণ।

দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। আর নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে শুনেছি লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরে নিহত ২৩ বাংলাদেশির মধ্যে ১০ জনেরই বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা। আমরা নিহতদের তালিকা তৈরি করে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। যাতে লাশগুলো দেশে স্বজনদের কাছে ফেরত আসে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করব।’

ওসি মাসুদ হোসেন খান আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় রাজৈর হরিদাসদি গ্রামের স্বপন মাতুব্বর, মজুমদারকান্দি গ্রামের মনির হাওলাদার ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলীপুরের রফিকুল ইসলাম দালাল জড়িত থাকার কথা মৌখিকভাবে শুনেছি। ঘটনার পর থেকে দেশে থাকা দালালরা আত্মগোপনে রয়েছেন। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

/এসবি