২য় পর্ব, ভীরু জমাদার

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৮:০১



আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছাড়া বাঁচানো যাবে না
কোমায় আছে বাংলাদেশের সত্য প্রকাশ

২য় পর্ব, ভীরু জমাদার, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৮:০১

কোমায় আছে বাংলাদেশের সত্য প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

পর্ব-১ https://bengalnews24.com/news/37714

পাঠক নিশ্চয়ই এতক্ষণে গাজীপুরের ধীরাশ্রমের গল্প জেনেছেন। কিন্তু পকৃত ঘটনা প্রায় কোন গণমাধ্যমে বলা হয়নি। মূল ঘটনা হচ্ছে শুক্রবার রাতে সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আকম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলা করতে গিয়েছিল বৈষম্য বিরোধীদের একটি দল। বাড়ি নারী ও শিশুরা ছিল। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসেন। ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে আরও মানুষ ডাকেন। তারা সবাই মিলে হামলাকারীদের প্রতিরোধ করে। এতে তাদের ১৫ জন আহত হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। কিন্তু সকালে সাংবাদিকদের তারা বলে, ওই বাড়িতে ডাকাত পড়ার তথ্য পেয়ে তারা বাড়িটা রক্ষা করতে গিয়েছিল। তার পর আওয়ামী লীগের লেকজন তাদের ওপর হামলা করে।

কথিত বৈষম্যবিরোধীদের এই ন্যরেটিভ মিথ্যা জেনেও সকাল থেকে এই তথ্যই প্রচার করছিল টেলিভিশনগুলো। পোর্টালগুলোতেও একই তথ্য ছিল। কিন্তু দুপুরের পর সারজিস ও হাসনাত গাজীপুর রাজবাড়ী মাঠে পৌছার পর সাংবাদিকদের গালিগালাজ করতে থাকে। লাঞ্চিত করে। একপর্যায়ে সাংবাদিকরা পালাতে বাধ্য হয়। সবাই অবশ্য বোঝে কেন তারা প্রচার চাচ্ছে না৷ প্রথমত এটা ছিল ৫ই আগস্টের পর মোটামুটি শক্ত প্রতিরোধ। দ্বিতীয়ত সেখানে তারা বেশি লোকজন  জড়ো করতে পারেনি। তৃতীয়ত হামলার মত অন্যায় করতে গিয়ে প্রথমবারের মত মার খেয়েছে তাদের লেকজন।  এই পুরো বিষয়গুলো প্রচার হলে দেশের মানুষের মাথায় প্রতিরোধের বিষয়টি আরও শক্ত হয়ে বসে যেতো। তাছাড়া ভয় ছিল সাংবাদিকরা যদি প্রশ্ন তোলে যারা মার খেয়েছে, তাদের বাড়ি কোথায়?  ডাকাতির তথ্য পেয়েই চলে আসতে পারলো? এত কম লোক নিয়ে আসতে হলো, উদ্দেশ্য কী ছিল? বিপদগ্রস্ত একটি পরিবারে ডাকাতি নয়তো?

গাজীপুরের ঘটনাটা খুব বড় হয়তো নয়। কিন্ত এঘটনায় অনেক কিছু বের হয়ে এসেছে। সেদিক দিয়ে ঘটনা অনেক বড় বা বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাই হোক সে প্রসঙ্গে এই লেখায় বলবো শেষে। এখন বলির এই লেখার প্রথম পর্বের সূত্রের কথা। সেখানে বলছিলাম বাংলাদেশের সাংবাদিকদের দমবন্ধ অবস্থার কথা। গাজীপুরের ঘটনায় আরেকবার প্রকাশ হলো, আসলেই বর্তমানে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ছিন্নভিন্ন করছে ঘোর মৌলবাদ চক্র। আমরা জানলাম মৌলবাদীরা তাদের ভয়ঙ্ককর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারছে, কিন্তু প্রকাশ করতে দিচ্ছে না। তারা জানে বোধ সম্পন্ন লোকদের মিডিয়া সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আর যারা আছে তাদের চুপ করাতে গেলে ভয় দেখিয়েই যেতে হবে।

পাঠক দেখুন গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে কোন যোগ্য সাংবাদিক বেকার ছিল না। তা তিনি যে মতের বা পথের হোন। একেবারে ঘোর মৌলবাদীরা শুধু মিশতে পারেনি প্রগতিশীল ধারার সঙ্গে। তাই এখন সেই মৌলবাদীরা ভাবছে যোগ্য সাংবাদিকদের কাজ থেকে যতটা দূরে রাখা যায় ততটাই  মঙ্গল। তারা যাদের বিপদে রাখবে ভাবছে, তারা কোন দলের সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা সেই সাংবাদিক মৌলবাদী অসভ্যতার তথ্য জানাবে কী না। মোদ্দা কথা এখন বাংলাদেশে সাংবাদিকদের দুটি ভাগ। বড়ভাগে আছে সত্য বলতে উদগ্রীব একদল যোগ্য সাংবাদিক। আর ছোটভাগটিত আছে সবকিছুতে বিদ্বেষ ভরা চিন্তা নিয়ে ঘোরা একদল অযোগ্য লোক। যোগ্য লোক যদি বিএনপিপন্থীও হন তিনিও দমনের তালিকায় পড়েছেন। যেমন শওকত মাহমুদ। তিনি বিএনপি চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি মৌলবাদীদের চাপে জাতীয় প্রসক্লাবের স্থায়ী সদস্য পদ হারিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে যোগ্য সাংবাদিকদের এই ঘোর দুর্দিন কত দিন থাকবে? আমার পর্যবেক্ষণ বলছে এই দুর্দিন কাটার কোন সুযোগ নেই। আমি দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে লেখাটি  মেলাতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু না মিলেয়ে উপায় নেই। বর্তমান সরকারের যে চাওয়া তা মিলে যাচ্ছে সাংবাদিকদের মৌলবাদী ক্ষীণ ধারার চাওয়া পাওয়ার সঙ্গে। তথ্য উপদেষ্টা সুযোগ পেলেই সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকের হাত ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসক্লাবে তালিকা পাঠিয়ে ৮৩ জন সাংবাদিকের সদস্য পদ স্থগিত করেছে৷

কেন তাদের এত রাগ সাংবাদিকের ওপর? কেন বেশিরভাগ সাংবাদিক জুলাই আন্দোলনে তাদের স্বেচ্ছাচারের তথ্য তাদের মত করে ব্যাখ্যা করলো না?  কেন সাংবাদিকরা বার বার প্রধানমন্ত্রীর সেই উক্তি বার বার টেলিভিশনে আনলেন। “চাকরি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা পাবে না তো কী রাজাকারের সন্তানরা পাবে?” এর মানে কী করে হয়, যে যারা আন্দোলন করছে তারা রাজাকারের বাচ্চা? কেন এই ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ নেয়া হলো?  কারা নিল? আমি চাই বা না চাই এখন খুব সহজেই নিশ্চয় উত্তর বের হয়ে আসবে।  উত্তর বের হবে  ২০২৪ এর ৫ই আগস্ট সৃষ্টির সব সূত্র এবং মূল লক্ষ্যের। এটা সচেতন মানুষ যেমন জানে, তেমন জানে সরকারের স্টেক হোল্ডাররা।

পাঠক একবার ভাবুন, ২৪শের জুলাই-আগস্টের কথা। সেসময় সরকার সব দাবি মেনে নেয়ার পর যখন আন্দোলন চলতে থাকলো, সরকারি স্থাপনায় ভয়াবহ তাণ্ডব চলতে থাকলো, তখন সাংবাদিকরা এর ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কোন সমন্বয়ক কোন টেলিভিশনের শোতে যোগ দিয়ে নিজেদের যুক্তির কথা শক্ত করে তুলে ধরতে পারেননি। বার বার ল্যাজেগোবরে করায় তারা এক....

চলবে

/এসবি