নিজস্ব প্রতিবেদক
বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর
১৭ আগস্ট ২০২৫ ০৮:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৭ আগস্ট ২০২৫ ০৮:৩৬
ছবি: সংগৃহীত
চীনা সরকারকে নিয়ে বহুবার অভিযোগ উঠেছে যে তারা হুয়াওয়ে কোম্পানিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে গুপ্তচরবৃত্তি চালায়। হুয়াওয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক, যা 5G নেটওয়ার্কসহ নানা প্রযুক্তি সরবরাহ করে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং কিছু ইউরোপীয় দেশ দাবি করেছে যে হুয়াওয়ের সরঞ্জামে এমন ব্যাকডোর রাখা হয়, যা চীনা গোয়েন্দা সংস্থা বিদেশি তথ্য গোপনে সংগ্রহ করতে পারে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সরকারি সংস্থাগুলোতে এর যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। একইসাথে কয়েকটি মিত্র দেশকেও 5G অবকাঠামো থেকে হুয়াওয়েকে বাদ দিতে উৎসাহিত করে। হুয়াওয়ে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নিজেদের স্বাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দাবি করে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী হুয়াওয়েকে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতেই হবে, যা গুপ্তচরবৃত্তির শঙ্কা আরও বাড়ায়।
২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আফ্রিকান ইউনিয়ন সদর দপ্তরে রাতের সময়ে হঠাৎ সংবেদনশীল তথ্য চীনের শাংহাইয়ে পাঠানো হচ্ছিল। অভিযোগ ছিল, এটিতে হুয়াওয়ে নির্মিত একটি অবকাঠামোর মধ্যে "ব্যাকডোর" ছিল এবং মাইক্রোফোন ও দুরবর্তী ডাটা ট্র্যান্সফার ব্যবস্থাসহ ব্যবহার করে গোপনীয় তথ্য পাচার করা হয়েছে। যদিও হুয়াওয়ে ও চীনের তরফ থেকে এই অভিযোগ নাকচ করা হয়েছিল, তবে এইউ পরে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রযুক্তি পরিবর্তন ও শক্তিশালী এনক্রিপশন গ্রহণ করে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেসের ম্যানেজমেন্টের কাজসহ একাধিক স্পর্শকাতর কাজ পেতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চাইনিজদের আনাগোনা চোখে পড়েছে। আগারগাঁওয়ে অবস্থিত একটি সরকারি দপ্তরে হুয়াওয়ের চাইনিজ প্রকৌশলীদের একাধিকবার যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এছাড়াও ঢাকার রমনাতে আরেকটি সরকারি দপ্তরেও একই ধরণের ঘটনা চোখে পড়েছে। সরাসরি বাংলাদেশে বাণিজ্য না করলেও দেশি কিছু ছোট কোম্পানি বা ডিসট্রিবিউটরদেরকে দিয়ে এধরণের কাজের চুক্তি নেয়ার জন্য ব্যাপক তদবির চালাচ্ছে তারা। ফলে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের তথ্য চীনা গোয়েন্দাদের হাতে চলে যাবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।