কনটেন্ট ক্রিয়েটর

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৪ আগস্ট ২০২২ ১১:৪১



বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর পুরস্কার

কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৪ আগস্ট ২০২২ ১১:৪১


ইলাস্ট্রেশন, স্বপন আহমেদ

১৯৭৫ সালের ২৭ জুলাই ছুটির দিন সন্ধ্যায় গণভবনে নিজের অফিস কক্ষে বসে কাজ করছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মচারী আব্দুল জলিল। ফ্যান বন্ধ রেখে জানালার পাশে বসে কাজ করছিলেন তিনি। বন্ধ করে রেখেছিলেন কক্ষের দুইটি বাল্বের একটি। গণভবনে পায়চারী করতে বের হয়ে এ ঘটনা নজরে পড়ে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তিনি একজন সরকারী কর্মচারীর এমন কাজে খুশি হন। সঙ্গে সঙ্গে আব্দুল জলিলকে নগদ পাঁচশত টাকা পুরস্কার ও পদন্নোতির নির্দেশ দেন তিনি। ১৯৭৫ সালে আজকের দিনে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় প্রকাশিত একটি খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বঙ্গবন্ধুর এমন সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনের কাজে সরকারি কর্মচারীদের কৃচ্ছতাসাধনে উৎসাহিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সরকারি কর্মচারীদের কেউ কেউ দেশ গঠনের কাজকে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন।

বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য ৩ আগস্ট ১৯৭৫ সালের সংবাদটি তুলে ধরা হলো—

‘রবিবার ২৭ জুলাই। বঙ্গবন্ধু নিত্যকার মতো সন্ধ্যা বেলায় গণভবন এলাকায় পায়চারি করিতেছিলেন। হঠাৎ তাঁহার দৃষ্টি পড়ে কেবিনেট ডিভিশনের একটি কক্ষের প্রতি। ছুটির দিনেও সেখানে মৃদু আলো জ্বলিতেছে। বঙ্গবন্ধু সেদিকে আগাইয়া যান। তিনি দেখিতে পান, একজন লোক একগ্রচিত্তে কাজ করিতেছেন। তাঁহার গায়ে জামা নাই।

বঙ্গবন্ধু জিজ্ঞাসা করিয়া জানিতে পারেন যে, কর্মব্যস্ত ব্যক্তি কেবিনেট ডিভিশনের একজন সাধারণ কর্মচারী। নাম আবদুল জলিল। অনেক জরুরি কাজ থাকায় ছুটির দিনেও তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা কাজ করেন।

বঙ্গবন্ধু প্রশ্ন করিয়া আরও জানিতে পারেন যে, অতিরিক্ত বিজলি খরচ না হয়, সে জন্য তিনি কক্ষের দুইটি বাল্বের মধ্যে একটি বাল্ব জালাইয়া এবং বিজলি পাখার পরিবর্তে খালি গায়ে জানালা পথে বাহিরের মুক্ত হাওয়ায় কাজ করিতেছেন।

কেবিনেট ডিভিশনের এই সাধারণ কর্মচারীর উপরোক্ত কর্তব্যনিষ্ঠা ও মনোভাবে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত মুগ্ধ হন। তিনি জনাব আবদুল জলিলের পদোন্নতির নির্দেশ দেন এবং তাঁহাকে নগদ পাঁচশত টাকা পুরস্কার প্রদান করেন।’

কেএ/এইচকে